যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার চার বছরের সর্বোচ্চে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। এ হার চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন তথ্য দেশটির শ্রমবাজারে দুর্বলতার আরো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার নভেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। এ হার চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমন তথ্য দেশটির শ্রমবাজারে দুর্বলতার আরো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটিতে সেপ্টেম্বরে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। দীর্ঘ শাটডাউনে সরকারি দপ্তর বন্ধ থাকার কারণে শ্রমবাজার সম্পর্কিত অক্টোবরের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরে নতুন করে ৬৪ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তবে অক্টোবরে কর্মসংস্থান কমেছিল ১ লাখ ৫ হাজার। এ তথ্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) জন্য চলতি বছর সুদহার কমানোর পক্ষের যুক্তিগুলোকে জোরালো করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতিবিদদের ওপর ব্লুমবার্গ পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে নভেম্বরে দেশটিতে ৫০ হাজারের বেশি নতুন কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। তবে জরিপে আগের মাস অক্টোবরে চাকরি কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগও ফুটে ওঠে, যা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

অক্টোবরে কর্মসংস্থান কমার প্রধান কারণ ছিল ফেডারেল সরকারের নিয়োগ হ্রাস। ওই মাসে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থান কমেছে ১ লাখ ৬২ হাজার। নভেম্বরে আরো ছয় হাজার কর্মসংস্থান কমেছে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ফেডারেল সরকারের মোট কর্মসংস্থান কমেছে ২ লাখ ৭১ হাজার। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইলোন মাস্কের নেতৃত্বে গঠিত ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সির আওতায় নেয়া ব্যয়সংকোচন ও ছাঁটাই সিদ্ধান্তের প্রভাবেই এ পতন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান পিজিআইএম ফিক্সড ইনকামের বৈশ্বিক বন্ড বিভাগের প্রধান রবার্ট টিপ বলেন, ‘সব হিসাব বাদ দিলে প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা হলো বেকারত্বের হার। এটি বাড়তে থাকায় ফেডের নজর এখন মূল্যস্ফীতির চেয়ে কর্মসংস্থানের দিকেই থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এমন সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে, যখন ফেড চলতি বছরে তৃতীয় দফায় সুদহার কমিয়েছে। এতে ঋণগ্রহণ ব্যয় তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। তবে আটলান্টা ফেডের প্রধান রাফায়েল বস্টিক বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যের ওপরে থাকায় তিনি সর্বশেষ সুদহার কমানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন না। বর্তমান তথ্য শ্রমবাজার সম্পর্কে আমার প্রত্যাশার সঙ্গেই মিলছে। এটি আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি।’

এছাড়া চাকরি সংক্রান্ত পরিসংখ্যানে সংশোধন আনা হতে পারে। ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল অনুমান করছেন, গত সপ্তাহের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান প্রকৃতের চেয়ে প্রায় ৬০ হাজার বেশি দেখানো হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ব্যাংক ও আর্থিক সেবাপ্রতিষ্ঠান আইএনজির অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি বলেন, ‘গত কয়েক মাসে নিয়োগ কমে যাওয়ার তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কার্যত কর্মসংস্থান হারাচ্ছে। এতে ফেডের ভেতরে সুদহার কমানোর পক্ষে যুক্তি আরো জোরালো হবে।’

গত দুই মাসে বেসরকারি খাতে মোট ১ লাখ ২১ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের স্টিফেন ব্রাউন বলেন, ‘বেসরকারি খাতে এ ইতিবাচক গতি থাকলে ফেড বেকারত্বের হার বৃদ্ধিকে খুব বেশি উদ্বেগজনক মনে নাও করতে পারে।’

প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্ট কমে নেমেছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকও কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। বিনিয়োগকারীরা এখন আগামী বছরের মূল্যস্ফীতির তথ্য ও ফেডের নীতিগত অবস্থানের দিকে সতর্ক নজর রাখছেন।

আরও